রাকিবুল হাসান আহাদ, বিশেষ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে আয়োজিত নারী উদ্যোক্তা ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রশিক্ষণের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে গফরগাঁও উপজেলা যুবদলের সদস্য আমিনুল ইসলাম নারী বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের বিভিন্ন সময়ে উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন দেখিয়ে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর জন্য নির্ধারিত অর্থ বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে অংশগ্রহণকারীদের পুরো টাকা দেওয়া হয়নি। কোথাও ৪ দিনের প্রশিক্ষণের জন্য জনপ্রতি ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও হাতে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। বাকি অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা ভাগ করে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়, গফরগাঁও উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে একই কায়দায় প্রশিক্ষণের নামে অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, উপজেলা পর্যায়ের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও অফিস সহকারীরা পরস্পর যোগসাজশে এই অনিয়মে জড়িত। এমনকি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে টাকা উত্তোলনের প্রমাণ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আমিনুল ইসলাম বলেন, “সরকার নারীদের স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। অথচ সেই মহৎ উদ্যোগকে পুঁজি করে একটি চক্র অর্থ লুটপাট করছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।” উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খালেদা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করেছেন ময়মনসিংহ মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা উপ-পরিচালক নাজনীন সুলতানা সহ তদন্ত কমিটি। যুবদল নেতা আমিনুল আমার সাথে দেখা করতে পারতেন, আমাকে বদলী করতে চাচ্ছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে বদলী হয় না, বিষয়টা আমিনুল জানেনা। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারকে দিয়ে অভিযোগের কাগজে নাম্বারে ফোন করিয়েছিলাম, নাম্বার বন্ধ করে রেখেছে। ওকে বলেন আমার সাথে যোগাযোগ করতে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণের নামে এমন অনিয়ম চলতেই থাকবে। তারা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মাজহারুল হক
Email: news.pratidinerbangladesh@gmail.com
ফোনঃ 01752-388928
প্রধান কার্যালয়ঃ লেভেল ১৫/এ, ১২ সোনারতরী টাওয়ার, বাংলামোটর, ঢাকা।
Copyright © 2026 প্রতিদিনের বাংলাদেশ. All rights reserved.