রাকিবুল হাসান আহাদ, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহ শহরে চেকের মামলাকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র গরিব ও অসহায় মানুষকে হয়রানি করছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই চক্রের সঙ্গে কার্তিক চৌহান নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কার্তিক চৌহানের মা জেলা জজ কোর্টের তৃতীয় শ্রেণির একজন কর্মচারী। সেই পরিচয়কে পুঁজি করে তিনি আদালতপাড়া, বিআরটিএ, এলএ শাখা ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকেন্দ্রিক বিভিন্ন কাজে প্রভাব খাটান বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত চত্বরের আশপাশে লোক দেখানো ফটোকপি ও বিকাশ দোকানের আড়ালে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এসব দোকান থেকেই নাকি চেকের মামলার কাগজপত্র প্রস্তুত, নকল কাগজ তৈরি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মানুষকে ফাঁসানোর কাজ চলে।
একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, সামান্য আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে চেকের মামলা সাজিয়ে দেওয়া হয়। পরে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে গ্রেপ্তার ও জেল খাটানোর ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ উঠেছে, এই দালালি ও মামলাবাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে কার্তিক চৌহান ময়মনসিংহ শহরে একাধিক জায়গা-জমি কিনেছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহল মনে করছেন, আদালত ও সরকারি দপ্তরের আশপাশে এ ধরনের দালালচক্র সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক হুমকি। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগীরা।