রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
দোকানের বাইরে মদ বিক্রি ও বসে পান করার অভিযোগ মুক্তাগাছার হরিজন পল্লী নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নে নেত্রকোনায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার গুরুত্বে আলোচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হোমনায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংগঠনিক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত সংসদ ইনসাফের ভিত্তিতে চললে দেশেও ইনসাফ কায়েম হবে: বিরোধীদলীয় নেতা গত ৮ বছর দেশে হামের টিকাই দেওয়া হয়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ৪১ লাখেরও বেশি করদাতার শাহজালাল বিমানবন্দর বিমানের শৌচাগারে মিলল ৩৮ কোটি টাকার সোনার বার মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন কয়েক হাজার মার্কিন সেনা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় আকস্মিক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর ভারতের সঙ্গে ড্র করে গ্রুপ রানার্সআপ বাংলাদেশ, সেমিতে প্রতিপক্ষ নেপাল
নোটিশঃ
২৪ ঘন্টায় লাইভ খবর পেতে চোখ রাখুন প্রতিদিনের বাংলাদেশ ওয়েবসাইটে

দোকানের বাইরে মদ বিক্রি ও বসে পান করার অভিযোগ মুক্তাগাছার হরিজন পল্লী নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নে

Reporter Name / ৩৩ Time View
Update : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন

মামুনুর রশীদ মামুন,ময়মনসিংহঃ সরকারি নিয়মে পারমিটধারী বা কার্ডধারী ব্যক্তির জন্য সীমিত পরিমাণে দেশী মদ বিক্রির অনুমতি রয়েছে। কিন্তু ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় সেই অনুমোদিত মদই দোকানের বাইরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বোতলপ্রতি ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু বিক্রিই নয়—স্থানীয় হরিজন পল্লীর ভেতরে গড়ে উঠেছে একাধিক অননুমোদিত ‘বার’, যেখানে প্রকাশ্যেই বসে মদ পান,বোতল সরবরাহ ও পরিবেশনের ব্যবস্থা চলছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লাইসেন্সধারী দেশী মদের দোকানটিকে কেন্দ্র করে আশপাশে গড়ে উঠেছে সমান্তরাল একটি অবৈধ নেটওয়ার্ক। দোকান থেকে মদ বের হওয়ার পর তা সরাসরি বাইরে বিক্রি করা হয় না; বরং স্থানীয় হরিজন পল্লীর ভেতরের কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেয়া কয়েকজন ব্যক্তি ক্রেতাদের কাছে বোতল সরবরাহ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ,সরকারিভাবে একজন পারমিটধারী বা কার্ডধারী ব্যক্তি দৈনিক ১ লিটার বা মাসে নির্ধারিত ৯ লিটারের বেশি মদ পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে ওই কার্ডের আড়ালে কয়েক গুণ বেশি মদ সংগ্রহ করে বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে একদিকে সরকারি নিয়ম ভঙ্গ হচ্ছে, অন্যদিকে অবৈধ বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট। পল্লীর ভেতরে একাধিক ‘বার’! প্রতিবেদকের সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়,হরিজন পল্লীর সরু গলি ও হাফ বিল্ডিং বা টিনশেড ঘরের আড়ালে কয়েকটি স্থানে বসে মদ পান করার ব্যবস্থা রয়েছে। কোথাও প্লাস্টিকের চেয়ার -টেবিল,কোথাও বেঞ্চ পেতে রাখা হয়েছে। সন্ধ্যার পর এসব স্থানে লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে।

কয়েকজন একসঙ্গে বসে মদের বোতল খুলে পান করছেন—এমন দৃশ্যও দেখা গেছে। একটি স্থানে দেখা যায়,একজন ব্যক্তি ঘরের ভিতর থেকে বোতল এনে কয়েকজনের সামনে গ্লাসে ঢেলে দিচ্ছেন। আরেকটি স্থানে একজন ক্রেতা দাম জানতে চাইলে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি বলেন, “এক বোতল দুই হাজার টাকা,যত লাগবে পাওয়া যাবে।” স্থানীয়দের ভাষ্য,দোকানের ভেতরে নিয়মের কথা বলা হলেও বাইরে সবই ‘ম্যানেজ’ করা হয়। দোকান থেকে মদ তুলে পল্লীর ভেতরে এনে বেশি দামে বিক্রি করা হয়। কেউ চাইলে সঙ্গে সঙ্গে বসে পান করা থেকে শুরু করে পার্সেলও নিতে পারেন আনলিমিটেড পরিমাণে। ২০০ টাকার মদ ২ হাজারে! অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সরকারিভাবে যেসব দেশী মদ তুলনামূলক কম মূল্যে বিক্রির কথা,সেই মদই বাইরে এনে প্রায় ১০ গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি,যে মদের বোতল কয়েকশ টাকায় বিক্রির কথা,সেটি দোকানের বাইরে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা পরিচয়ে কথা বললে সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত একজন বলেন,“কার্ড লাগবে না, আমাদের কাছে আছে-বোতল কয়টি লাগবে দেওয়া যাবে।” আরেকজনের ভাষ্য, “এক বোতল লাগলে দুই হাজার,বেশি নিলে ব্যবস্থা আছে।” ক্রেতা পুলিশি ভয় প্রকাশ করলে- বিক্রেতা জানান,সেটাও ম্যানেজ! তা না-হলে,ব্যবসা করি কিভাবে? অভিযোগ রয়েছে,কয়েকজন মধ্যস্বত্বভোগী পারমিটধারী বা কার্ডধারীর পরিচয়ে মদ সংগ্রহ করে বাইরে এনে বিক্রি করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই কার্ড ব্যবহার করে একাধিকবার মদ তোলার ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি। দোকানের বাইরে গড়ে উঠেছে ‘দ্বিতীয় বাজার’: অনুসন্ধানে দেখা যায়,লাইসেন্সধারী দোকানের সামনে ও আশপাশে সারাক্ষণ কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করেন। দোকানে যাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে তারা আগে কথা বলেন। পরে তাদের হরিজন পল্লীর ভেতরের নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বোতল দেখিয়ে দরদাম করা হয়,পরে টাকা নিয়ে বোতল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

দিনের বেলায় তুলনামূলক কম হলেও সন্ধ্যার পর বেচাকেনা বাড়ে। কোনো কোনো সময় ব্যাগ বা কার্টনে করে একসঙ্গে কয়েকটি বোতল পল্লীর ভেতর থেকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। ফলে দোকানের বাইরে কার্যত আরেকটি ‘দ্বিতীয় বাজার’ গড়ে উঠেছে,যেখানে সরকারি নিয়মের কোনো প্রয়োগ নেই। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “দোকানে যা হয়,তার চেয়ে বাইরে বেশি বিক্রি হয়। দোকানের সামনে কয়েকজন থাকে,তারা ক্রেতা নিয়ে ভেতরে যায়।” আরেকজন বাসিন্দার ভাষ্য, “রাতে এখানে ছোট ছোট কয়েকটা বারের মতো হয়ে যায়। বাইরে থেকে মানুষ আসে, বোতল নেয়,বসে খায়।” নিরাপত্তাহীনতায় স্থানীয়রা: এলাকাবাসীর অভিযোগ,অবৈধ এই বেচাকেনা ও বসে পান করার কারণে আশপাশে প্রায়ই মাতলামি,উচ্চস্বরে চিৎকার,ঝগড়া ও ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নারী,শিশু ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। একজন স্থানীয় দোকানদার বলেন, “রাতে নেশাগ্রস্ত লোকজন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে হৈচৈ করে। এতে আমাদের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” আরেকজন বাসিন্দা বলেন, “পল্লীর ভেতরে যেভাবে খোলাখুলি বসে মদ খাওয়া হচ্ছে,তাতে এলাকার পরিবেশ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।” প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: স্থানীয়দের প্রশ্ন,দোকানের বাইরে যদি প্রকাশ্যে বোতল বিক্রি,টাকা লেনদেন,বসে পান করা এবং অতিরিক্ত দামে সরবরাহ চলতেই থাকে,তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে তা কীভাবে সম্ভব? তাদের দাবি,মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালালে এই অবৈধ বেচাকেনা একদিনেই বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে একই ভাবে চললেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় থানা পুলিশের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে মুক্তাগাছা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে,মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। কী বলছে আইন: প্রচলিত বিধি অনুযায়ী,দেশী মদ কেবল বৈধ পারমিটধারী বা কার্ডধারী ব্যক্তির কাছে নির্ধারিত সীমার মধ্যে বিক্রি করা যাবে। দোকানের বাইরে পুনর্বিক্রি,অতিরিক্ত মজুদ, অনুমতি ছাড়া সরবরাহ কিংবা বসে পান করার ব্যবস্থা রাখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু মুক্তাগাছায় বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Developer Ruhul Amin