শাহিন চৌধুরী: ঢাকার কেরানীগঞ্জের রামের কান্দা ব্র্যাকের হলরুমে বৃহস্পতিবার (৫ ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টায় ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নিং মাইগ্রেন্টস (প্রত্যাশা–২) প্রকল্পের আওতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশফেরতদের পুনরেএকীকরণ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় বক্তারা বলেন, দালালচক্রের মাধ্যমে বিদেশগমন দেশের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অনেক অভিবাসী প্রতারিত হয়ে নিঃস্ব অবস্থায় দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করা অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানে আল মুবিন রহমান বলেন, কেরানীগঞ্জ এলাকায় বিদেশে পাঠানোর নামে সক্রিয় দালালচক্রগুলোকে চিহ্নিত করা গেলে প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফেরার ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। তিনি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।কমিটির সাধারণ সম্পাদক তার বক্তব্যে বলেন, কেরানীগঞ্জে বসবাসরত অন্যান্য জেলার অনেক মানুষ জীবিকার তাগিদে বিদেশে যান। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ দালালের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে প্রতারিত হয়ে দেশে ফিরে আসছেন। অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়ে রিকশা চালিয়ে বা অন্য ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি আরও বলেন, ব্র্যাকের ‘প্রত্যাশা’ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে বিদেশফেরতদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত অন্তত ৩৬টি পরিবার আর্থিক সহায়তা পেয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
তিনি সবাইকে দালালচক্র থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিদেশে যাওয়া উচিত, যাতে প্রতারণার শিকার না হতে হয়। ফাতেমা ইসলাম রিনা বলেন, কেরানীগঞ্জে অনেক স্বল্পশিক্ষিত মানুষ দালালদের প্রলোভনে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি ও সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিতে হবে। পরে তিনি ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কার্যক্রম এবং প্রত্যাশা–২ প্রকল্পের ওপর একটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সভাপতি মোঃ আসাদুজ্জামান বিদেশগমনেচ্ছু ও বিদেশফেরতদের উদ্দেশ্যে সতর্কতামূলক বক্তব্যে বলেন,যদি সবাই সচেতন হন এবং অন্যদের সচেতন করেন, তাহলে দালালের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমে আসবে। তিনি জানান, প্রবাসীদের জন্য ব্র্যাকের পক্ষ থেকে একটি নতুন বিমা (ইনস্যুরেন্স) সুবিধা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিদেশফেরতদের আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হবে।
কর্মশালায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক, বিদেশফেরত অভিবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশফেরতদের পুনর্বাসনে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়।