মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
বিসিএস কর্মকর্তা না হয়েও বিসিএস উপাধি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোনার মদন উপজেলার ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ নূরুল হুদা খানের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সরকারি বদলির আদেশ জারির প্রায় ১৬ মাস অতিবাহিত হলেও তিনি এখনো আগের কর্মস্থলেই বহাল রয়েছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, হাওরাঞ্চলের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান কেন্দ্র মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ডা. মুহাম্মদ নূরুল হুদা খান ৫ জানুয়ারি ২০২৩ সালে ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য প্রশাসক হিসেবে এখানে যোগদান করেন।
পরবর্তীতে ২ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এ বি এম আবু হানিফ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বান্দরবানে সহকারী সার্জন হিসেবে বদলি করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তা না করলে ষষ্ঠ কর্মদিবস থেকে তাকে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করার কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু বদলির আদেশ জারির দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার অভিযোগও রয়েছে। জানা গেছে, তিনি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন অফিস করেন। এতে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সরকারি বদলির আদেশ অমান্য করার পরও কীভাবে তিনি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন—এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে নিজেকে বিসিএস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনি বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা নন; এডহক ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত। তবে তার ভিজিটিং কার্ডে বিসিএস কর্মকর্তা উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয়ে কেন্দুয়া ও ঢাকার বিভিন্ন ক্লিনিকে রোগী দেখেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আরও জানা যায়, ২০২৩ সালে খালিয়াজুড়ি উপজেলার একটি সরকারি গাড়ি অনুমতি ছাড়া কেন্দুয়ার একটি ক্লিনিকে ব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে জাতীয় একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ময়মনসিংহ সিভিল সার্জনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন কর্মচারী জানান, তিনি নিয়মিত অফিস না করায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুত তার বদলির আদেশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আরএমও ডা. তায়েব হোসেন বলেন, “তিনি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। বিষয়টি সিভিল সার্জন স্যার ভালো বলতে পারবেন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, বদলির আদেশ বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসনিক দায়িত্ব। সরকারি নির্দেশ অমান্য করা হলে তা শৃঙ্খলাভঙ্গের মধ্যে পড়ে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
নেত্রকোনা সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম মাওলা বলেন, তার বদলির আদেশটি আমার যোগদানের আগের। বর্তমানে বিষয়টি কোন অবস্থায় আছে, তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভালো বলতে পারবে।
এ বিষয়ে ডা. মুহাম্মদ নূরুল হুদা খানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননাই।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মাজহারুল হক
Email: news.pratidinerbangladesh@gmail.com
ফোনঃ 01752-388928
প্রধান কার্যালয়ঃ লেভেল ১৫/এ, ১২ সোনারতরী টাওয়ার, বাংলামোটর, ঢাকা।
Copyright © 2026 প্রতিদিনের বাংলাদেশ. All rights reserved.