রাকিবুল হাসান আহাদ, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারি গফরগাঁও প্রাইভেট আলিফ হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই সিজারিয়ান অপারেশন করে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আফরোজা বেগমের বিরুদ্ধে একাধিক রোগী মৃত্যুর অভিযোগ সামনে আসায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গত শনিবার ৩০/০১/২৬ইং রাতে পৌরসভার রাগাইচটি গ্রামের আলাল নেতার বাড়ির পেছনে অবস্থিত আলিফ হাসপাতালে ভুল সিজারিয়ান চিকিৎসার শিকার হয়ে মারা যান রাকিব আল হাসানের স্ত্রী শান্তা। মৃত্যুকালে তিনি একটি নবজাতক সন্তান রেখে যান, যা বর্তমানে জীবিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রসববেদনা নিয়ে শান্তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আফরোজা বেগম কোনো ধরনের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশনের পরপরই শান্তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলেও তা নিয়ন্ত্রণে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।
স্বজনদের দাবি, সংকটাপন্ন অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য কোনো হাসপাতালে রেফার না করেই অবহেলার মধ্যেই রাখা হয় রোগীকে। এতে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেই শান্তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা হাসপাতালের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, আলিফ হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। চিকিৎসক ডা. আফরোজা বেগমের চিকিৎসায় এর আগেও একাধিক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। যারা প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন, তাদের অনেকেই স্থায়ী শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বজন বলেন,
“রোগী মোটামুটি সুস্থ ছিল। হঠাৎ করে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে অবস্থা খারাপ হলে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যায়।”
আরেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন,
“এখানে চিকিৎসার আগে টাকা দেখা হয়। রোগীর অবস্থা না বুঝেই অপারেশন করা হয়।”
ভুল চিকিৎসার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন—এভাবে ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষ মারা গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানি ঘটবে।
এ বিষয়ে আলিফ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. আফরোজা বেগমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান,
“লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মাজহারুল হক
Email: news.pratidinerbangladesh@gmail.com
ফোনঃ 01752-388928
প্রধান কার্যালয়ঃ লেভেল ১৫/এ, ১২ সোনারতরী টাওয়ার, বাংলামোটর, ঢাকা।
Copyright © 2026 প্রতিদিনের বাংলাদেশ. All rights reserved.