ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৫ নং ওয়ার্ডকে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও ধূলাবালি মুক্ত বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তরুণ সমাজসেবক ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও সভাপতি প্রার্থী রাজপথের পরিক্ষীত ত্যাগী নেতা গোলাম মোস্তফা বাবু চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সমস্যায় জর্জরিত এই ওয়ার্ডে টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছ নেতৃত্ব এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে ৫ নং ওয়ার্ডের সড়কব্যবস্থার দুরবস্থা, ড্রেনেজ সংকট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধার অভাব দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ভোগান্তির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান ও পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য একজন কর্মঠ ও দূরদর্শী এবং সৎ নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে। উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী পরিবার ও রাজনৈতিকভাবে বেশ সুপরিচিতি গোলাম মোস্তফা বাবু চৌধুরী একটি ঐতিহ্যবাহী ও সম্মানিত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মুসলিম নারী চিকিৎসক এবং গুলকীবাড়ী জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা জমিদারকন্যা ডাঃ ইদেন ন্নেছা বিবির পৌপূত্র।
একই সঙ্গে তিনি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক খেতাবপ্রাপ্ত বাংলাদেশের প্রথম সিভিল সার্জন ডা. আবেদ উদ্দিন এমবিএ (খান সাহেব)-এর নাতি। এছাড়া তিনি সাবেক ২ নং ওয়ার্ড (বর্তমান ৫ নং ওয়ার্ড)-এর সাবেক কমিশনার শাহ ফরহাদ মিনুর শ্যালক এবং ময়মনসিংহ জেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর কিতাব আলী তালুকদারের শ্যালকের জৈষ্ঠ সন্তান এবং শেরপুরের সাবেক এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ বিএনপির সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মরহুম জাহেদ আলী চৌধুরীর ভাতিজা, শেরপুর-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরীর চাচাতো ভাই এবং ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক পাঁচ বারের কমিশনার বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এসএম নাজমুল হক তারা’র সাথে ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। শিক্ষা ও রাজনৈতিক পথচলা বাবু চৌধুরী ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ার জন্য তিনি বি.এড কোর্সে ভর্তি হলেও রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে তা শেষ করতে পারেননি। রাজনীতিতে তার পথচলা শুরু হয় ১৯৯৭ সালে একটি স্কুল কমিটির অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। পরে ২০০৩ সালে তিনি ৫ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে শহর ছাত্রদলের (সোহাগ-রুকন) কমিটিতে (প্রস্তাবিত) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কমিটিতে জায়গা হয়েছিলো।
২০১১ সালে আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি পদে প্রার্থী হন, যদিও সে সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এছাড়া ২০২৪ সালে তিনি জুলাই আন্দোলনে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সহ-সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ কর্তৃক বিএনপির পলিটিক্যাল ফেলো ইয়ং লিডার ফেলোশিপের গ্রাজুয়েট এবং ময়মনসিংহ বিভাগের বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাস্টার ট্রেইনার। আন্দোলন সংগ্রামে দীর্ঘ ত্যাগ রাজনৈতিক জীবনে বহু মামলা, নির্যাতন ও কারাবরণের মধ্য দিয়ে এগিয়ে এসেছেন বাবু চৌধুরী। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তিনি ৪৪টি মামলার আসামি ছিলেন এবং ৩৭ বার রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। একটানা ১৩ মাস ২১ দিন কারাগারে থাকার পাশাপাশি বিরোধী দলের আন্দোলনে অংশ নিয়ে মোট সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় কারাবরণ করতে হয়েছে তাকে।
জানা যায়, তাকে একাধিকবার জেলগেট থেকেই পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং ১২ বার শ্যোন অ্যারেস্ট করা হয়। সেই সময় তিনি ক্রসফায়ারের তালিকাতেও ছিলেন। রিমান্ডে নেওয়ার সময় অমানবিক নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি রাজনৈতিক আদর্শ থেকে সরে আসেননি।
মানবিক কর্মকাণ্ডে জনপ্রিয়তায়
করোনা ভাইরাস মহামারির সময় তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন রান্না করা খাবার অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় সামাজিক উদ্যোগ, স্বেচ্ছাশ্রম এবং দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তিনি সরকারি ও বেসরকারি এনজিও ভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন এবং ময়মনসিংহের পরিচিত ইভেন্ট এক্টিভিস্ট, যার মাধ্যমে তিনি বহু নারী পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রী তার পরিচালিত ইভেন্টে কাজ করে শিক্ষা জীবন শেষ করেছে যারা এখন বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত রয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, ৫ নং ওয়ার্ডের প্রায় প্রতিটি পরিবারই তাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনে এবং বিপদে-আপদে তাকে পাশে পাওয়া যায়। পরিকল্পিত উন্নয়ন ও নান্দনিক সুন্দর স্মার্ট ওয়ার্ডের স্বপ্ন নিয়ে বাবু চৌধুরী মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ৫ নং ওয়ার্ডে টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন একটি বাস্তবভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান। তার পরিকল্পনায় রয়েছে—আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা
ভাঙাচোরা ও সরু সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ
আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা
পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপন
খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ
নাগরিক নিরাপত্তা জোরদার, গরিব মহিলাদের জন্য তিনি ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করে তাদের স্বল্প ঋনের ব্যবস্থা করে সাবলম্বী করে তোলা, হতাশায় নিমজ্জিত বেকার ও মাদকাসক্ত তরুনদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ওয়ার্ড গড়ে তোলা এবং এর পাশাপাশি তিনি একটি “স্মার্ট ওয়ার্ড” গড়ে তোলার পরিকল্পনাও ঘোষণা দিয়ে জনসাধারণের কাছে দোয়া চেয়ে যাচ্ছেন। বাবু চৌধুরী পরিকল্পনাযর আওতায় থাকবে অনলাইন অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা, নাগরিক তথ্যভান্ডার তৈরি, পুরো ওয়ার্ড কে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা এবং ই-গভর্ন্যান্স সেবা সম্প্রসারণ। তিনি বলেন, “পরিকল্পিত নগর গড়তে হলে প্রথমেই প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ নেতৃত্ব। আমি চাই ৫ নং ওয়ার্ডকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আধুনিক নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন এলাকায় রূপান্তর করতে। পরিবর্তনের আশায় এলাকাবাসী ৫ নং ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, গৃহিণী ও প্রবীণ নাগরিকদের মধ্যে এখন পরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে এই ওয়ার্ডকে এগিয়ে নিতে একজন সৎ, যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রয়োজন। এছাড়াও আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাবমুক্ত রাখতে আধুনিক কৌশল অবলম্বন করার কথা জানিয়েছেন। সেই সাথে তিনি বলেছেন ফ্যাসিস্ট সরকার গড়ার কারিগর ও তাদের পরিবারের অসৎ ফন্দি এবার জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে চুড়ান্ত রায় দিবে এবং মাদক ব্যবসায়ী, সুদের ব্যবসায়ী, মদখেকো ও জুয়ার বোর্ডের ব্যবসায়ীদের এবার জনগণ রুখে দিতে ঐক্যবদ্ধ। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, “আমরা এমন একজন প্রতিনিধিকে চাই, যিনি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সবসময় মানুষের পাশে থাকবেন। বাবু চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে আছেন, তাই আমরা তার উপর আস্থা রাখি। পরিকল্পিত উন্নয়ন, স্বচ্ছ নেতৃত্ব এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবার প্রত্যাশায় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৫ নং ওয়ার্ড এখন এক নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মাজহারুল হক
Email: news.pratidinerbangladesh@gmail.com
ফোনঃ 01752-388928
প্রধান কার্যালয়ঃ লেভেল ১৫/এ, ১২ সোনারতরী টাওয়ার, বাংলামোটর, ঢাকা।
Copyright © 2026 প্রতিদিনের বাংলাদেশ. All rights reserved.