শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
গফরগাঁওয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দের মিছিলে ছাত্রদলের হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ ৩৬ বছরের বৈষম্যে ক্ষুব্ধ পল্লী বিদ্যুৎ মিটার রিডাররা গৌরীপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগ গফরগাঁওয়ে প্রশিক্ষণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ গফরগাঁওয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দের মিছিলে ছাত্রদলের হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১,৯৮১ জন প্রার্থী জনসভা উপলক্ষে জনসমুদ্রে পরিণত সিলেট আলিয়া মাঠ প্রবাসী নারীকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিনের মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টার শোক করাচিতে শপিং মলে আগুন : এক দোকান থেকেই বের করা হয় ৩০ মরদেহ
নোটিশঃ
২৪ ঘন্টায় লাইভ খবর পেতে চোখ রাখুন প্রতিদিনের বাংলাদেশ ওয়েবসাইটে

৩৬ বছরের বৈষম্যে ক্ষুব্ধ পল্লী বিদ্যুৎ মিটার রিডাররা

Reporter Name / ৭০ Time View
Update : শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত মিটার রিডার কাম মাসেঞ্জাররা (এমআরসিএম) দীর্ঘ ৩৬ বছর এর বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। এ পদে ১৫ হাজারের বেশি কর্মচারি তাদের দীর্ঘদিনের বৈষম্য নিরসন, চাকরি নিয়মিতকরণ এবং আন্দোলনের কারণে চাকরিচ্যুত ১৬ জন কর্মীকে পুনর্বহালের দাবিতে বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবের পরেও এ বৈষম্যের অবসান না ঘটায় তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। মিটার রিডার কাম মাসেঞ্জাররা (এমআরসিএম) ইতিমধ্যে এ সমস্যার সমাধানের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করলেও এখনো পর্যন্ত প্রতিকার মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেননি।

ভূক্তভোগী এমআরসিএম কর্মরত কর্মচারিরা জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত মে মাসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ১৬ দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা সিদ্ধান্তে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে উচ্চপদস্থ দুটি কমিটি গঠন করা হয়। এর একটি কমিটিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সকল চুক্তিভিত্তিক ও অনিয়মিত কর্মচারীদের চাকরি নিয়মিতকরণ এবং চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের বিষয় খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু, কমিটির সদস্যরা সংশ্লিষ্টদের সাথে কোনো আলোচনা না করেই শুধুমাত্র বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (ব্রেব)-এর সঙ্গে আলোচনা করে একপাক্ষিক প্রতিবেদন দেয়। এর ভিত্তিতে গত ৭ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্তে ‘লাইন শ্রমিক (কাজ নাই মজুরি নাই)’ পদের চাকরি নিয়মিতকরণের সুপারিশ করা হলেও এমআরসিএমদের চাকরি নিয়মিতকরণের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এতে কমিটির প্রতি তাদের আস্থার প্রতিফলন ঘটেনি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত বিলিং সহকারী, লাইন ক্রু ও অন্যান্য পদ নিয়মিত করা হলেও শুধু এমআরসিএমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

এদিকে আন্দোলনে অংশগ্রহণের অভিযোগে বিভিন্ন সমিতি থেকে ১৬ জন চুক্তিভিত্তিক এমআরসিএমকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চাকরিচ্যুত এসব কর্মীর পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে অভিযোগ করা হয়। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন, কেউ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা ব্যয় বহনে অক্ষম। এমআরসিএম নেতারা জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সূচনালগ্ন থেকেই মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জার পদ দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ম্যাসেঞ্জার পদটি নিয়মিত ছিল, পরবর্তীতে তা চুক্তিভিত্তিক করা হয় এবং বর্তমানে দুই পদ একত্রিত করে ‘মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার’ নামকরণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটির ওপর কাজ ছাড়া সমিতির প্রায় সব কার্যক্রমেই তারা অংশগ্রহণ করে থাকেন।

তাদের দাবি, একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর কিংবা সারাজীবন চুক্তিভিত্তিকভাবে কাজ করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চাকরি নিয়মিতকরণে অতিরিক্ত কোনো আর্থিক ব্যয়ও হবে না; বর্তমান বেতন কাঠামোর মধ্যেই এটি সম্ভব। মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জাররা বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কমিটির প্রতিবেদন ও বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চাকরিচ্যুত কর্মীদের অবিলম্বে পুনর্বহাল এবং বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য নতুন করে কমিটি গঠনের দাবি জানান তারা। তারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার বৈষম্য দূরীকরণের যে অঙ্গীকার করেছে, তারই ধারাবাহিকতায় এমআরসিএমদের দীর্ঘদিনের দাবি দ্রুত মানবিক বিবেচনায় নিষ্পত্তি করা হবে।

পবিস নির্দেশিকা ৩০০-১৪.৩০০-২৪ অনুযায়ী সমিতির নিজস্ব সার্কুলার প্রকাশ, লিখিত পরীক্ষা. ব্যবহারিক. মৌখিক. মেডিকেল টেস্ট. পুলিশ ভেরিফিকেশন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সকল নিয়ম সম্পন্ন করার পর নির্বাচিত প্রার্থীকে নিরাপত্তা জামানত গ্রহণের মাধ্যমে পূর্বে ১ বছরের জন্য বর্তমান ৩ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০৮ সালে এমআরসিএম পদের পক্ষ থেকে চাকুরী নিয়মিত করনের দাবিতে বিআর ইবি ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়। এ প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দপ্তারাদেশের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক ভাবে একই সমিতিতে মেয়াদ বৃদ্ধি করে ৩ বছর থেকে ৬ বছর করা হয়। ২০১২ সালের প্রথম দিকে বিভিন্ন সমিতি থেকে চুক্তিভিত্তিক এমআরসিএম চাকুরী নিয়মিত করনের লক্ষ্যে চেয়ারম্যান বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করা হয়। বাপিবি বোর্ড হতে চাকরি নিয়মিত করনের লক্ষ্যে ২০১২ সালের ৯ মে, ০৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি কোন বিষয়ে বিচার বিশ্লেষণ না করে শুধুমাত্র এই দুটি পদে নিয়োজিতদের সংখ্যা এবং আর্থিক দিক বিবেচনা করে চাকুরী নিয়মিত করন না করে ৬ বছর থেকে ৯ বছর এর মতামত প্রদান করেন।

একই সুপারিশ মালায় কাজের পরিধি বাড়িয়ে একজন মিটার রিডারের জন্য ২ হাজার রিডিং এর পরিবর্তে আড়াই হাজার রিডিং গ্রহণ এবং একজন ম্যাসেঞ্জার এর ২০০০ বিল বিতরণের পরিবর্তে ২৫০০ বিল বিতরণের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। বাপিবিবোর্ড কোন সুপারিশ মালা অনুসরণ না করেই হঠাৎ ২০১৬ সালে ব্যয় সংকোচনের জন্য একটি আদেশের মাধ্যমে কাজের পরিধি বাড়িয়ে দিয়ে একজন মিটার রিডারের জন্য ২০০০ রিডিং গ্রহণের পরিবর্তে ৪ হাজার রিডিং গ্রহণ এবং একজন ম্যাসেঞ্জার এর জন্য ২ হাজার বিল বিতরণের পরিবর্তে ৫ হাজার বিল বিতরণ করা নির্দেশনা জারি করেন। এর ফলে মিটার রিডার ও ম্যসেঞ্জারদের চলমান চুক্তি নবায়ন বন্ধ করে দেন। প্রতিবাদে এমআরসিএমগণ আন্দোলন শুরু করেন এবং টানা ১১ দিন কর্ম বিরতি পালন করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য আশ্বস্ত করা হলে কর্ম বিরতি স্থগিত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে বাপিবিবোর্ড ২১ ডিসেম্বর ১৭ ইং সিদ্ধান্ত নং ১৬২৮৭ এর ভিত্তিতে দপ্তর আদেশ জারি করেন। উক্ত আদেশে মিটার রিডার ও মেসেঞ্জার দুটি পদ একীভূত করণ করে এমআরসিএম নামকরণ করা হয় এবং কাজের পরিধি বাড়িয়ে দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়। এছাড়াও ১০ বছর ১৫ বছর এবং ২০ বছর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কর্মচারীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পদ্ধতি চালু করা হয়।

যাহার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে আবারো আন্দোলন শুরু হয় এরপর পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করা হয় কিন্তু অন্যান্য বিষয়গুলো কোন সমাধান দেওয়া হয় না। এমআরসিএম গণ মিটার রিডিং ও বিল বিতরনের পাশাপাশি বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়. ব্যাংকের কালেকশন সংগ্রহ. নাইট অপারেশন. ডে- অপারেশন. ক্রাশ প্রোগ্রাম. সাবস্টেশন ডিউটি. লাইনম্যান দের সঙ্গে মিটার পরিবর্তন. নতুন মিটার সংযোগ. অভিযোগ ও সমাধান এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন সময়ে ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও সমিতিতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন রকম ভূমিকা পালন করে থাকেন। সমিতিতে প্রতিবছর গ্রাহক মোটিভেশন এর জন্য লক্ষ লক্ষ বিভিন্ন রকম দাপ্তরিক চিঠি পত্র গ্রাহকের অবহিতকরণ পত্র. বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তি নোটিশ .গ্রাহক প্রান্তে পৌঁছানোর কাজ মিটার রিডার কাম ম্যসেঞ্জার গণ করে থাকেন। এ সকল চিঠিপত্র .নোটিশ. বিজ্ঞপ্তি. কোন মাধ্যম দিয়ে প্রেরণ করতে হলে সমিতির বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হতো এবং এই সকল চিঠিপত্র সঠিক সময় গ্রাহক প্রান্তে পৌঁছানো সম্ভব হতো না।

২৮ শে জানুয়ারি ২০২৪ হইতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে বিদ্যমান সংকট দেখা দিলে পল্লী বিদ্যুতের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলমান থাকে। আন্দোলনের মূল রূপরেখা হয় আর ই বি এবং পি বি এস একীভূতকরণ এবং সকল অনিয়মিত এবং চুক্তিভিত্তিক দের চাকরি নিয়মিত করন। গত ১লা আগস্ট ২০২৪ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ নিলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করে। গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর গত ৮ই আগস্ট ২৪ ইং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়। আন্দোলনের তীব্রতা অনুভব করে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান জনসম্মুখে প্রচার করেন যে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে এর সমাধান করব। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪-০৯- ২০২৪ ইং তারিখে স্মারক নং২৭১.২১.০০০০.১১০.৬৪.০০১.২৪.১৫৯১ এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সমূহের সাংগঠনিক কাঠামো সেট আপে নিয়মিত যে সব পথ রয়েছে সেসব পদে চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের দ্রুত নিয়োগ এবং পদায়নের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি গত ১লা জানুয়ারি ২০২৫ স্মারক নং ২৭.১২.০০০০,০৩০,৩১.৭০৮.২৪.২১৩ এর মাধ্যমে একটি রিপোর্ট প্রণয়ন করেন। উক্ত কমিটির সুপারিশের বিপরীতে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক একটি সিদ্ধান্ত দেখানো হয় (ক) পবিস নির্দেশিকা ৩০০-১৪ অনুযায়ী ১৯৯৬ সাল হতে মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিধান না থাকায় নিয়মিতকরণ সম্ভব নয় অথচ ১৯৮৭ সাল থেকেই ম্যাসেঞ্জার পদটি নিয়মিত ভাবে সাংগঠনিক সেটাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সর্বশেষ ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ম্যাসেঞ্জার পদটি নিয়মিতভাবে নিয়োগ প্রদান করা হতো ১৯৯৬ সাল থেকে হঠাৎ করেই সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই ম্যাসেঞ্জার এবং বিলিং সহকারি পদটি চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োগ শুরু হয়। তৎ পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সভা সেমিনারের মাধ্যমে স্মারকলি প্রদান এবং বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনের মাধ্যমে চাকুরী নিয়মিত করনের দাবি করা হয়। একই নিয়োগ পদ্ধতিতে নিয়োগ দেওয়া বিলিং সহকারি লাইন ক্র লেভেল-১ এবং বিলিং সহকারি কাজ নাই মজুরি নাই এদেরকে নিয়মিত করণ করা হয়েছে। বর্তমান পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে একমাত্র এমআরসিএম পদটি চুক্তিভিত্তিক হিসেবে কর্মরত সে কারণে কর্ম ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পারিবারিক ও সামাজিকভাবে আমরা হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি। এমনকি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে সকল চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিত করণ করলেও আমাদের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার প্রেক্ষিতে ধারাবাহিক আন্দোলন হিসেবে গত ২১-০৫-২০২৫ ইং মাসে শহীদ মিনারে ১৬দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয় তাহারি পরিপ্রেক্ষিতে সূত্র নং ১. বিদ্যুৎ বিভাগের স্মারক নং-২৭.০০.০০০০.০০০.০৮৯.০৬.০০০৩.২৫.২৪৪ তারিখ ১৭-০৬-২০২৫ইং।

সূত্র নং-২ বিদ্যুৎ বিভাগের স্মারক নং ২৭.০০.০০০০.০০০.০৫৩.৯৯.০০০২.২৫.৩৬৯ তারিখ ০৭- ১২ -২০২৫ ইং উপদেষ্টা মহোদয়ের সিদ্ধান্তে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে উচ্চপদস্থ ০২টি কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে একটি কমিটি সমিতির সকল চুক্তিভিত্তিক ও অনিয়মিত কর্মচারীদের চাকুরী নিয়মিত করনের বিষয় খতিয়ে দেখা এবং অন্যটি সকল চাকুরি চ্যূত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পূনঃ বহালের জন্য। এমআরসিএমরা বলেন, কমিটির প্রতি আমরা পূর্ণ আস্থা রেখেছিলাম। অথচ উক্ত কমিটি মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জারে সঙ্গে কোন ধরনের আলাপ-আলোচনা না করে শুধুমাত্র পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে একপাক্ষিক রিপোর্টর প্রেক্ষিতে গত ০৭-১২ ২০২৫ ইং বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্তে কাজ নাই মজুরি নাই লাইন শ্রমিক পদের চাকুরী নিয়মিত করনের জন্য সুপারিশ করা হলেও মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জারদের চাকুরী নিয়মিত করনের কোন সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। আমরা এই কমিটির উপরে যে আস্তা রেখেছিলাম তার প্রতিফলন ঘটেনি এতে করে আমরা হতাশ এবং মর্মাহত। এমতাবস্থায় গত ১৭-১২ -২০২৫ ইং তারিখে মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জারদের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মহোদয় কে কমিটির রিপোর্ট এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্তের পুন: বিবেচনার মাধ্যমে মিটার রিডার কাম ম্যসেঞ্জারদের চাকরি নিয়মিত করনের আবেদন করা হয়েছিলো। আমরা আশা করি বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মহোদয় মানবিক দিক বিবেচনা করে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করবেন। এছাড়া বিভিন্ন সমিতি হতে চুক্তিভিত্তিক মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জারদের কে আন্দোলনের কারণ দেখিয়ে চূক্তি বাতিল করে চাকরি হতে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এতে করে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় গত ১২-০১-২০২৬ইং তারিখে স্বারক নং-২৭.০০.০০০০.০০০.০৫৩.৯৯.০০২.২৫.৩৩ এর মাধ্যমে কমিটি যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে তাতে মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জারদের আশার প্রতিফলন ঘটেনি। এতে করে সারা বাংলাদেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জারগণ মর্মাহত এবং হতভম্ব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Developer Ruhul Amin