স্টাফ রিপোর্টারঃ নেত্রকোনায় ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা ও দখলবাজির ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের (নায়েব) অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনের সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র প্রকৃত মালিকদের জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে নেত্রকোনা সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া মৌজায়। স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, তেঁতুলিয়া গ্রামের লুৎ মিয়া (মৃত রহিম খাঁর ছেলে), দয়াল (মৃত হাসেম খাঁর ছেলে) এবং কামরুল মেম্বার (মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে) একটি কুচক্রী মহলের সহায়তায় ৯০২ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় ১০ একর ৮০ শতাংশ জমি জবরদখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, জমিদারি আমল থেকে সিএস ও রেজিস্ট্রিকৃত বণ্টননামা দলিল অনুযায়ী এই জমির প্রকৃত মালিক জাফর খাঁর উত্তরাধিকারীরা। জমিটি দীর্ঘদিন ধরে তাদের দখল ও ভোগে রয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সম্প্রতি তেঁতুলিয়া মাজার প্রাঙ্গণে একটি সামাজিক সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সালিশে অভিযুক্ত লুৎ মিয়া, দয়াল ও কামরুল মেম্বার প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে, উক্ত জমিতে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই। স্থানীয়রা জানান, বিআরএস জরিপে জমিটির একটি অংশ (৪ একর ১৫ শতাংশ) ১নং খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা এলাকাবাসী হিসেবে দাবি উত্থাপন করেন। তবে ভুক্তভোগী মাসুদ খান জানান, মদনপুর ইউনিয়নের দুই ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম ও সৈয়দ আব্দুল কাদির তাদের প্রতিবেদনে খাস খতিয়ানের অংশটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করে পুরো জমি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। এতে করে দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মাসুদ খান আরও অভিযোগ করেন, “নায়েবদের আস্কারা পেয়ে সম্প্রতি লুৎ মিয়া ও দয়াল গং আমাদের পুকুর থেকে জোরপূর্বক প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার মাছ লুট করে নিয়ে গেছে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।” ঘটনার খবর পেয়ে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে নথিপত্র সংশোধনের দাবিতে ভুক্তভোগীরা হাইকোর্টে আবেদন করলে আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নেত্রকোনা জেলা জজ আদালতে প্রেরণ করেন। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকার প্রায় দুই শতাধিক প্রবীণ ব্যক্তি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, ভূমিদস্যুদের কবল থেকে জমি উদ্ধার এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী নায়েবদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।