নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মুস্তাকিম মিয়া (১৬) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ১০ জন আহত হয়। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মুস্তাকিম সায়দাবাদ গ্রামের সৌদিপ্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে।
সে স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, উপজেলার চরাঞ্চলের সায়দাবাদ গ্রামের হানিফ মাস্টার এবং বালুরচর এলাকার এরশাদ মিয়ার মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এর আগেও দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে বেশ কয়েকবার পাল্টপাল্টি হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। আজ ভোরে এরশাদ গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষ হানিফের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মুস্তাকিম মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়। স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে থানা-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
মুস্তাকিমের মা শাহানা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনি। আমার ছেলে কোনো রাজনীতি বা গ্রুপের সঙ্গে জড়িত ছিল না। যারা আমার বুক খালি করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’ তিনি জানান, তার স্বামী প্রবাসে থাকেন। তাদের পরিবার কোনো পক্ষের সঙ্গে জড়িত নয়।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিমকে হাসপাতালে আনা হয়। গুলিটি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরীক্ষা করে তার শরীরের বাঁ পাশে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।’ একজনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।