বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ০৮:৫২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
২৪ ঘন্টায় লাইভ খবর পেতে চোখ রাখুন প্রতিদিনের বাংলাদেশ ওয়েবসাইটে

মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে পেট্রোল পাম্প স্থাপন”প্রশাসনের নেই কোন পদক্ষেপ

Reporter Name / ১৩৪ Time View
Update : রবিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৩, ২:৪৮ অপরাহ্ন

মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে পেট্রোল পাম্প স্থাপন; প্রশাসন ও পুলিশের নেই কোন পদক্ষেপ

স্টাফ রিপোটারঃ বাংলাদেশ সরকারের ১৯৮৫/৮৬ সনের সরকারিভাবে ভূমি জরিপ কালে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলাধীন পাগলা
থানার ১১ নং লংগাইর ইউনিয়নের চাইরবাড়িয়া গ্রামের জৈনেক প্রবীন প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ আব্দুল হক, পিতা-মোঃ হোসাইন এর নামে চাইরবাড়িয়া মৌজায় বি.আর.এস খতিয়ান নং-৭৯ মোতাবেক সাবেক ৯৪ ও হাল ১৬৬ দাগে ২৩
শতাংশ পৈত্রিক জমি যথারীতি চূড়ান্ত ভাবে রেকর্ডভুক্ত হয় এবং যথারীতি এর ভোগদখলে থাকে।

উল্লেখ্য উক্ত গ্রামের জৈনেক ব্যবসায়ী মোঃ চাঁন মিয়া, পিতা- মৃত আছর আলী তিনি উক্ত দাগে ১৮ই ডিসেম্বর ১৯৯৬ তারিখ একই দিনে একই চৌহদির মধ্যে উক্ত মোঃ আব্দুল হকের নিকট হতে ৩.৫ শতাংশ এবং ৭.০ শতাংশ একুনে ১০.৫ শতাংশ
জমি ২টি দলিল মারফত ক্রয় করে এবং মোঃ আব্দুল হক উক্ত জমির উত্তরাংশে ১২.৫ শতাংশ জমিতে যথারীতি
ভোগদখল করে থাকেন। অত:পর প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ২টি দলিল একই চৌহদির মধ্যে অর্থ্যাৎ দক্ষিণে
কবরস্থান, উত্তরে দাতা মোঃ আব্দুল হক, পূর্বে হবিবুল্লাহ ঢালী ও পশ্চিমে জন রাস্তার উল্লেখ থাকায় উক্ত
দলিল ২টি একই চৌহদির অন্তভূক্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে হয়তো দলিল ২টি পারস্পারিক সাংঘর্ষিক জনিত কারনে
বাতিলের আসঙ্খায় উক্ত চাঁন মিয়া দাতা মোঃ আব্দুল হকের ভোগ দখলকৃত ১২.৫ শতাংশ জমি হাতিয়ে নেয়ার
চক্রান্ত করে যার প্রেক্ষিতে মোঃ আব্দুল হকের ছোট ভাই মোঃ আব্দুর রউফকে কিছু টাকা দিয়ে ৩১ শে ডিসেম্বর
১৯৯৬ তারিখ জমি ক্রয়ের একটি দলিলের সূচনা করে।

তিনি উল্লেখিত সাবেক ৯৪ ও হাল ১৬৬ দাগের ২৩ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করে। সেই ক্ষেত্রে মোঃ আব্দুল হক উহার যথাযথ প্রতিবাদসহ বাধা প্রদান করায় স্থানীয়ভাবে পর পর কয়েকবার সালিশ দরবার হয়। পরিশেষে ২১/০৫/২০০৪ তারিখের সালিশের পূর্বে আব্দুর রউফ নিজের ভুল স্বীকার করে উক্ত সালিশ কর্তৃপক্ষের বরাবর ২০/০৫/২০০৪ তারিখ একটি লিখিত দরখাস্ত করেন এবং দরখাস্তে উল্লেখ করেন উক্ত চাঁন মিয়ার পরামর্শে তাহার নিকট অবৈধভাবে উল্লেখিত জমি বিক্রি বাবদ ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকার মধ্যে ৭০০০/- (সাঁত হাজার) নেয়া টাকা ফেরত দেয়ার কথা। অত:পর সার্বিক দিক বিবেচনা করে উল্লেখিত চৌহদির মধ্যে ৩.৫ শতাংশ এবং ৭.০ শতাংশ একুনে ১০.৫ শতাংশ জমির পারস্পারিক সাংঘর্ষিক হওয়ার আসঙ্খায় এবং উক্ত আব্দুর রউফের নিকট থেকে উক্ত চাঁন মিয়ার খরিদকৃত দলিলের কোন বৈধতা না থাকায় উল্লেখিত সালিশ দরবার
উক্ত চাঁন মিয়াকে আদালতের পরামর্শ নেয়ার সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন।

কিন্তু উক্ত চাঁন মিয়া মোঃ আব্দুর রউফের নিকট হতে টাকা ফেরত না নিয়ে এবং আইন আদালতের পরামর্শ না নিয়ে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে মোঃ আব্দুল হক এবং তার ৪ ভাতিজাকে বিবাদী করে ময়মনসিংহ কোর্টে একটি চাদা বাজীর মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদনে চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে যায়। চাদা বাজীর মামলা নং- ১৮২/২০০৪। অত:পর উক্ত চাঁন মিয়া মোঃ আব্দুল হকের অগোচরে তার ৭ ভাতিজা এবং ভাতিজিদেরকে বিবাদী করে সিনিয়র সহকারী জজ গফরগাঁও আদালত ময়মনসিংহে একটি দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করেন। যার নং ৫৩/২০০৯। মোঃ আব্দুল হক উহা টের পেয়ে তিনি উক্ত মামলার ৮নং বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। অত:পর সংগত কারণে রায় উক্ত মামলা ৮নং বিবাদী হিসেবে মোঃ আব্দুল হকের
পক্ষে দেওয়া সূত্রে এবং মামলাটি বাদির বিরুদ্ধে তদন্ত করা সূত্রে মোকদ্দমাটি ডিসমিস হয়।

কিন্তু উক্ত দুজন চাঁন মিয়া তিনি উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ বিজ্ঞ জেরা দায়রা জজ আদালতে আপীল মোকদ্দমা দায়ের করেন। মোঃ আব্দুল হক উহার বিরুধীতা করেন। কিন্তু আপীল মোকদ্দমাটি মুঞ্জুর হওয়ায় সেক্ষেত্রে মোঃ আব্দুল হক
উক্ত মুঞ্জুরকৃত আপীলের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে রিভিশন মোকদ্দমা দায়ের করেন। যার নং- ২৩৯৯/১৭।
উক্ত মোকদ্দমায় আব্দুল হকের পক্ষে পর পর ৪টি “Stay Order” হয়। কিন্তু উক্ত চাঁন মিয়া উল্লিখিত “Stay
Order” বলবত থাকা কালীন উহা অমান্য করে উক্ত তর্কিত ভূমিতে মাটি কাটা সহ বসতঘর নির্মাণ কালে মোঃ
আব্দুল হক উহার তীব্র প্রতিবাদসহ পরিশেষে পাগলা থানার অফিসার ইনচার্জ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার,
গফরগাঁও বরাবর আবেদন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার গফরগাঁও পাগলা থানার অফিসার ইনচার্জকে উল্লেখিত
Stay Order” অমান্যকারীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্র দেন তারিখ-৩০/০৪/২০২০। উক্ত পত্র
অনুযায়ী পাগলা থানা কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে তদন্তক্রমে তর্কিত ভুমিতে কোন প্রকার স্থাপনা না করার নিষেধাজ্ঞা
প্রদান করেন।

কিন্তু উক্ত চাঁন মিয়া থানা কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার কিছু দিন পর আবার মহামান্য হাইকোর্টের Stay Order অমান্য করে উক্ত তর্কিত ভূমিতে একটি অবৈধ পেট্রোল পাম্প স্থাপনসহ পূন:দখলের চেষ্টা করলে মোঃ আব্দুল হক যথাযথ বাধা প্রদান করাসহ পাগলা থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ডায়রী নং-৫২/২০২২।

পাগলা থানা কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে তদন্তক্রমে Stay Order কৃত ভুমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করে উক্ত
চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ৫০৬ এর পার্ট-II ধারা অভিযোগক্রমে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। যার নং-১৯৯৩/১৬/৮/২২। উল্লেখ্য উক্ত
কোর্ট থেকে যার ২/১টি শুনানী গ্রহণান্তে ৬নং কোর্টে মামলাটি বদলী করেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে মহামান্য
হাইকোর্টের সকল Stay Order” এর প্রেক্ষিতে Stay Order বলবত রেখে মুল মোকদ্দমাটি (৫৩/২০০৯) Remand
এ পাঠানোর পরও উক্ত চাঁন মিয়া উহা অমান্য করে উল্লিখিত তর্কিত ভূমিতে বেআইনীভাবে একটি অবৈধ পেট্রোল
পাম্প স্থাপনসহ পুন:দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রহিয়াছে। মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করার বিষয়ে চাঁন
মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন “এসব নুংরা ভাষা (বা,,,,,,র) হাইকোর্ট আর থানা আমার কি করব; পুলিশ ত অনেক বার
আইছে। সব ব্যাটারে টেহা দিয়া ব্যবসা করতাছি, আপনার যা পারেন করেন গা” । উক্ত চাঁন মিয়া মহামান্য
হাইকোর্টকে বারংবার অবমাননা করার মত দন্ডনীয় অপরাধ করা সত্ত্বেও উপজেলা প্রশাসন ও পাগলা থানা
কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন করেন নি
এবং উক্ত তর্কিত ভূমিতে অবৈধ পেট্রোল পাম্প উচ্ছেদের কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় দিনে দিনে মহামান্য
হাইকোর্টের আদেশ অমান্যকারী অপরাধীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Developer Ruhul Amin