একটি উন্নত, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি গঠনে প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন এবং স্নেহ-মমতায় পূর্ণ অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আজকের শিশুই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের সুস্থ বিকাশ, আনন্দময় শৈশব, মানসম্মত শিক্ষা এবং মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের ওপরই নির্ভর করছে একটি সমৃদ্ধ, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক জাতি গঠনের ভবিষ্যৎ। তাই প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও স্নেহ-মমতায় পরিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।”
তিনি বলেন, শিশুদের সামগ্রিক সুরক্ষাবলয় আরও শক্তিশালী করা এবং তাদের সার্বিক বিকাশের পথ সুগম করতে সরকার বিভিন্ন কল্যাণমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে উন্নত শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, শিক্ষাঙ্গন থেকে ঝরে পড়া শিশু-কিশোরদের যুগোপযোগী প্রযুক্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং শিশুবান্ধব বিচারিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
একই সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের কাছেও এসব রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা সমভাবে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম পুনরায় চালুর পাশাপাশি দেশের ৬৪টি জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণ, ‘স্পোর্টস কার্ড’ ও ক্রীড়া ভাতা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার সমন্বিত চর্চার মাধ্যমে শিশুরা দেশপ্রেম, সততা ও মানবিক গুণাবলীতে সমৃদ্ধ হবে এবং আগামী দিনের বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করবে।
শিশু অধিকার দিবসের সঙ্গে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তির সংযোগকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত পাঁচ দশক ধরে সংগীত, নৃত্য, চারুকলা, আবৃত্তি ও সাহিত্যচর্চাসহ সৃজনশীল বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশুদের মেধা বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। পরিশেষে শিশু অধিকার দিবসের সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করে বিশ্বের প্রতিটি শিশুর জীবন নিরাপদ, আনন্দময় ও সম্ভাবনাময় করে তোলার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।