সংবাদ প্রকাশের জেরে হয়রানির শিকার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন দৈনিক আমার দেশ-এর শ্রীপুর প্রতিনিধি এস এম জহিরুল ইসলাম। গাজীপুরের আদালতে দায়ের করা একটি ফৌজদারি মামলায় তাঁকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলায় নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তিনি।
এস এম জহিরুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, ২৫১২/২৬ নম্বর মামলায় শাহনাজ নামের এক ব্যক্তি তাঁকে প্রধান আসামি করেছেন। একই মামলায় হুমায়ূন রশিদ, জসিম উদ্দিন ও ইসমাইল হোসেনকেও আসামি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, মামলায় উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে।
জহিরুল ইসলাম জানান, এর আগে শ্রীপুর উপজেলার তালতলী এলাকার একটি জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে তিনি সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ওই সংবাদ প্রকাশের পর আইন উদ্দিন ও তাঁর ছেলে আলমাছ উদ্দিন তাঁকে হয়রানির হুমকি দেন। এ ঘটনায় তিনি শ্রীপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে আইন উদ্দিনের মেয়ে শাহনাজের দায়ের করা মামলায় তাঁকে আসামি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর আরও দাবি, মামলায় উল্লেখ করা কথিত ঘটনার বিষয়ে আগে শ্রীপুর থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি বলে পুলিশ তাঁকে জানিয়েছিল। তবে এসব বক্তব্য ও অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
লিখিত বক্তব্যে জহিরুল ইসলাম বলেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে হয়রানি বা চাপের মুখে পড়তে হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, কোনো অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে কাউকে আগাম দোষী বা নির্দোষ ঘোষণা না করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা, ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই এবং তাঁর করা হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান। তদন্তে কোনো অভিযোগ মিথ্যা বা ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে গাজীপুর ও শ্রীপুরে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন জহিরুল ইসলাম।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করবে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।