মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার মদন উপজেলার উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে অফিস ফাঁকি দিয়ে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অফিস সময়েই ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে অফিসের কাজ ফেলে কর্ম এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
জানা যায়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাসের অধিকাংশ সময়ই অফিসটি বন্ধ থাকে। কাগজে-কলমে কর্মকর্তা থাকলেও নানা সমস্যায় অফিসে এসে কৃষকরা তাকে পান না।
গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১২টা ৪৫ মিনিটে সরেজমিনে পাট উন্নয়ন অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি কেন্দুয়া রোডে ‘মেটাল’ নামীয় একটি মেশিনারিজ দোকানে টি-শার্ট পরিহিত অবস্থায় ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। সাংবাদিক উপস্থিতি টের পেয়ে সেখান থেকে সরে যান তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থাকেন ওই কর্মকর্তা। পাটচাষীদের পাট চাষে উদ্বুদ্ধ করা, প্রশিক্ষণ প্রদানসহ সরকারি কার্যক্রম যথাযথভাবে পালন করছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, তারা পাট কর্মকর্তা খুঁজে বহুবার অফিসে গেলেও তাকে পাননি। এমনকি তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শও পাননি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, তিনি সরাসরি দেখা করে এ বিষয়ে কথা বলবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী জানান, অফিস সময়ের মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।
জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আতাউর রহমান নোমানী বলেন, অফিস চলাকালীন অন্য কোনো কাজ করা নিয়মবহির্ভূত। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।