সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট পানির নিচে অর্ধলক্ষ হেক্টর জমির ধান, উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কল-কারখানার বিষয়ে বৈঠক দুই শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার কুষ্টিয়া পীর হত্যায় মামলার এজাহার ভুক্ত আসামি রাজিব গ্রেপ্তার গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগ পুলিশের শীর্ষ ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর বন্যায় মদন পৌরসভায় ফিশারিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

কুষ্টিয়া পীর হত্যায় মামলার এজাহার ভুক্ত আসামি রাজিব গ্রেপ্তার

Reporter Name / ১৬ Time View
Update : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ন

মোঃ জিয়াউর রহমান স্টাফ রিপোর্টার:

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম রেজা (৫৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাজিবকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখিত চারজনের মধ্যে তিনি একজন।

ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। রাজশাহীর গোদাগাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এক এজাহারভুক্ত আসামিসহ এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‍্যাব জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার রিকুইজিশন আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে র‍্যাব-১২, সিপিসি-১ কুষ্টিয়া এবং র‍্যাব-৫ সদর কোম্পানির একটি যৌথ দল রাজশাহীতে রাজিবের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালায়।

রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার থানা রোড এলাকায় নাসিম হেয়ার ড্রেসারের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই সেলুনে চুল কাটাতে গিয়েছিলেন। দরবারে হামলার ঘটনার পর প্রথমে তিনি পাবনা ও পরে রাজশাহীতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করে র‍্যাব। পরে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার (১ মে) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কুষ্টিয়া কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার রাজিব দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা।

পেশায় কাঠমিস্ত্রি রাজিব ওই গ্রামের গাজি মিস্ত্রির ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের রাজনীতিতে এলাকায় সক্রিয় ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান। তিনি কথিত পীর আব্দুর রহমান শামীম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি।

পবিত্র কোরআন ও ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে গত ১১ এপ্রিল দুপুরের দিকে পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামে কথিত পীর আব্দুর রহমান শামীমের দরবার শরিফে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

এ সময় দরবারের দোতলার একটি কক্ষ থেকে শামীমকে বের করে এনে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ভিডিও ফুটেজে নীল রঙের টিশার্ট পরা রাজিবকে বাঁশের লাঠি দিয়ে সর্বপ্রথম ‘পীর’ শামীমের কোমরে আঘাত করতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, দরবারে পীর হত্যা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলা এবং বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার রাজিবকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার (১ মে) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার ১৫ দিন পর গত ২৬ এপ্রিল গভীর রাতে পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর এলাকা থেকে বিপ্লব হোসেন (২৬) ও আলিফ ইসলাম (২৩) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এর পরের দিন (২৭ এপ্রিল) গভীর রাতে একই ইউনিয়নের ইসলামপুর লাটপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১৬) গ্রেপ্তার করা হয়। পরের দিন (২৮ এপ্রিল) ওই শিক্ষার্থীকে আদালতের নির্দেশে কুষ্টিয়া কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠায় পুলিশ।তবে, কিশোর বয়সি ওই স্কুলছাত্রকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়। বলা হয়, সেদিনের ঘটনার পর উৎসুক অনেকেই দেখতে গিয়েছিল, সেও সেখানে দেখতে গিয়েছিল।

তাই বলে তাকে আসামি কেন করা হবে?’ গ্রেপ্তার ওই তিনজনের কারো নাম মামলার এজাহারে ছিল না। পরে হামলার ভিডিও ফুটেজে উপস্থিতি দেখে তাদের শনাক্ত করা হয় বলে পুলিশ জানায়।

বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর হামলায় নিহত ‘পীর’ আব্দুর রহমান শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে গত ১৩ এপ্রিল রাতে চারজনের নাম-পরিচয় উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা করেন।

এতে ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কালাম দফাদারের ছেলে স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. খাজা আহম্মেদকে (৩৮) প্রধান আসামি করা হয়। তিনি জেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা জামায়াতের বর্তমান কর্মপরিষদ সদস্য।এজাহারভুক্ত অপর তিন আসামির মধ্যে ২ নম্বরে রয়েছেন উপজেলার হোসেনাবাদ (বিশ্বাসপাড়া) গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে মো. আসাদুজ্জামান (৪৮)। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি। আসামি তালিকায় ৩ নম্বরে রয়েছেন পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগরের দারোগার মোড় এলাকার গাজী মিস্ত্রির ছেলে কাঠমিস্ত্রি রাজীব (৩২) এবং ৪ নম্বর আসামি হলেন ইসলামপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষক মো. শিহাব উদ্দিন (৪৫)। গ্রেপ্তার এড়াতে এজাহারভুক্ত অপর আসামিরা গা-ঢাকা দিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
Theme Created By ThemesDealer.Com