বিশেষ প্রতিনিধি: এএম লিটন: গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতার বাড়ির সামনে থেকে ১০টি শক্তিশালী সক্রিয় ককটেল ও রাজনৈতিক ব্যানার উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শাহজালালের বিরুদ্ধে চাঁদা না পেয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত বিএনপি নেতার গ্রেফতারের দাবিতে এলাকায় ঝাড়ু ও জুতা মিছিল করেছেন বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা দাবি করেছেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের আন্দারুল গ্রামে অভিযানে যায় টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। এসময় টঙ্গী পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুন্নবী হৃদয়দের বাড়িসংলগ্ন একটি কাঠের তাকে পরিত্যক্ত কাগজের কার্টন দেখে সন্দেহ হয়। পরে কার্টনে ককটেল বা বোমা সদৃশ বস্তু দেখে স্পেশাল রেসপন্স ইউনিটে (এসআরইউ) খবর দেয়া হয়। শনিবার বিকেল তিনটার দিকে ঢাকা থেকে এসআরইউ এর আট সদস্যের একটি বোম্ব ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটিতে গর্ত খুঁড়ে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে ১০টি ককটেল নিষ্ক্রিয় করে।
এসআরইউর পরিদর্শক কাজী তোবারক হোসেন জানান, ককটেলগুলো দেখতে সাধারণ মনে হলেও সেগুলোতে অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক উপকরণ ব্যবহৃত হয়েছিল এবং প্রতিটিই বিস্ফোরণের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় ছিল। টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ব্যানারে দুটি রাজনৈতিক পোস্টার উদ্ধার করা হয়। তাতে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আদালত কর্তৃক দেওয়া রায় বাতিল এবং কারাবন্দীদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভের কথা লেখা ছিল।
এদিকে, এই ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে ছাত্রলীগ নেতা হৃদয়ের পরিবার ও স্থানীয়রা। হৃদয়ের মা জোসনা বেগম অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শাহজালাল কিছুদিন আগে তাঁদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা চাঁদা নেন এবং পরবর্তীতে আরও ১৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। উক্ত চাঁদার টাকা না পেয়ে তাঁদের পরিবারকে এলাকাছাড়া করতে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে বাড়ির সামনে ককটেল ও ব্যানার রেখে পুলিশে খবর দেন শাহজালাল। হৃদয়ের চাচা সরাফত আলীর দাবি, ককটেল উদ্ধারের কিছুক্ষণ আগেই শাহজালালকে দলবলসহ একটি প্রাইভেটকার ও দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে থেকে ঘুরে যেতে দেখা গেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জালালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী চিহ্নিত চোলাইমদ প্রস্ততকারক ও বিক্রেতা অলি ককটেল তৈরির কারিগর হিসেবেও এলাকায় পরিচিত। অলিকে দিয়েই শাহজালাল এসব ককটেল বানিয়ে হৃদয়কে ফাঁসানোর চেষ্টা করতে পারে। তার দাবী, জালাল পুলিশ দিয়ে জামেলা করতে পারে এই ভয়ে হৃদয় গ্রাম ছেড়ে বেশ কিছু দিন যাবত অন্যত্র বসবাস করছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ শাহজালালের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদা দাবি ও এলাকায় অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ এনে শনিবার বিকেলে এলাকায় একটি ঝাড়ু ও জুতা মিছিল বের করেন। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে অ্যাডভোকেট শাহজালাল বলেন, “আমার বিরুদ্ধে এটি একটি পরিকল্পিত প্রপাগান্ডা। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে এসব রটানো হচ্ছে। বোমা রেখে কেউ আবার নিজে ঘটনাস্থলে যায় নাকি?”
গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. শফিকুর রহমান বলেন, “বাড়ির সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় ককটেলগুলো পাওয়া গেছে। এগুলো কে বা কারা রেখে গেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং সম্পৃক্তদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় তদন্ত ও গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত কাউকেই আটক করা সম্ভব হয়নি।