নূর মোহাম্মদ জরিপ , মদন: নেত্রকোনার মদনে অতিবৃষ্টির কারণে হাওরের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছেন কৃষকরা। বোরো ধান কাটার মৌসুমের শুরুতেই জলাবদ্ধতা, শিলা বৃষ্টি ও অকাল বন্যার শঙ্কায় ডুবেছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। হাওরের অনেক এলাকায় পানি জমে থাকায় কম্বাইন হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না। একই সঙ্গে অনেক জমিতে এখনো ধান পুরোপুরি পাকেনি। ফলে বাধ্য হয়ে পাকা ও আধা পাকা ধান কেটে নিচ্ছেন কৃষকরা। কিন্তু শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত মজুরির কারণে ধান কাটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার মদন উপজেলায় ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।
এর মধ্যে প্রায় ২৩২ হেক্টর জমি অকাল বন্যা, শিলা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কৃষকদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। ফতেপুর ইউনিয়নের দেওসহিলা গ্রামের কৃষক জয়কুল ইসলাম জানান, তার ৫ একর জমির মধ্যে ৩ একর পানিতে ডুবে গেছে। বাকি জমিও আংশিক জলাবদ্ধতায় রয়েছে। তিনি বলেন, “১৬টি শ্যালু মেশিন দিয়ে ১৩ দিন ধরে পানি সরানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”
তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামের কৃষক রুকন মিয়া জানান, তার ৩ একর জমির মধ্যে ২ একর জমিতে ধান কাটতে পারেননি জলাবদ্ধতার কারণে। অন্যদিকে পৌর এলাকার কৃষক আল মাহবোব আলম আল আমিন বলেন, পানির কারণে যন্ত্র ব্যবহার করা যাচ্ছে না, আবার শ্রমিকের মজুরি ১২০০ টাকা হলেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, নিচু জমির প্রায় ৭৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে এবং উঁচু জমির ৩৩ শতাংশ কাটা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাকি ধানও দ্রুত কাটা সম্ভব হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী জানান, কিছু এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে এবং পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে। তবে কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। ছবি সংযুক্ত :সেচ পাম্পে নিষ্কাশনের চেষ্টা নূর মোহাম্মদ জরিপ