মদন (নেত্রকোনা)প্রতিনিধি : নেত্রকোনার মদন উপজেলায় স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এক নারীকে মারধর, ভরণপোষণ না দেওয়া এবং জোরপূর্বক তালাকের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নূরুন্নাহার মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোবিন্দশ্রী বড্ডা গ্রামের মৃত ফজলুল করিমের ছেলে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে প্রায় ১৭ বছর আগে ভালোবেসে ইসলামিক শরিয়াহ অনুযায়ী নূরুন্নাহারের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ১৪ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর নূরুন্নাহার তার বাবার বাড়ি থেকে ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া প্রায় ২৫ লাখ টাকা স্বামীর হাতে তুলে দেন, যা দিয়ে বাড়ি নির্মাণ, গরু ক্রয় ও জমি কেনা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, ওই টাকা পাওয়ার পর থেকেই জহিরুল ইসলামের আচরণ বদলে যায় এবং তিনি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদ ও থানায় সালিশ বৈঠক হয়। সালিশে জহিরুল তার ভুল স্বীকার করে পুনরায় সংসার করার প্রতিশ্রুতি দেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি জহিরুল ইসলাম গোপনে মদন পৌরসভার জাহাঙ্গীরপুর পশ্চিমপাড়ার হোসাইন নামে এক কাজীর মাধ্যমে তালাকের নোটিশ দিয়েছেন বলে এলাকায় প্রচার চালান। বিষয়টি জানতে পেরে গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নূরুন্নাহার প্রতিবাদ করলে স্বামী, তার ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী মিলে তাকে মারধর করে। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরলে তাকে ঘরে উঠতে দেওয়া হয়নি এবং জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া তার ভাসুরের কাছ থেকে জমি ক্রয় করলেও এখনো দলিল বুঝে পাননি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গত চার বছর ধরে স্বামী কোনো ভরণপোষণ দেন না এবং সন্তানের খোঁজখবরও নেন না বলে দাবি করেন নূরুন্নাহার। এ ঘটনায় নিরুপায় হয়ে নূরুন্নাহার স্বামী জহিরুল ইসলামসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমি তাকে তালাক দিয়েছি, কাগজপত্র আছে। টাকা দিয়ে বাড়ি-জমি করার বিষয়টি সত্য নয়, আমি নিজেই উপার্জন করেছি।” এ বিষয়ে মদন পৌরসভার কাজী হোসাইন আহমেদ জানান, “আমি আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি।” মদন থানার ওসি হাসনাত জামান বলেন, “এর আগেও তাদের নিয়ে থানায় বসা হয়েছিল এবং বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল। নতুন করে অভিযোগ দেওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।